সুদিনের পথে কান্তাস এয়ারওয়েজ

0
223

করোনার ধাক্কা কাটিয়ে আবারও স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়ান বিমান পরিবহন সংস্থা কান্তাস এয়ারওয়েজের কর্মপরিধি। এরই মধ্যে সংস্থাটি তাদের গন্তব্য ও ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। কারণ ভ্রমণে করোনা মহামারির বাধা দূর হতে শুরু করায় আকাশ পথে বাড়তে শুরু করেছে যাত্রীদের চাপ।
কান্তাস এয়ারওয়েজের প্রধান নির্বাহী অ্যালন জয়েস জানিয়েছেন, গত ৫ সপ্তাহের ৪ সপ্তাহেই অভ্যন্তরীণ রুটের চেয়ে আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী সংখ্যা বেশি ছিল। করোনা মহামারির শুরুর পর প্রথমবারের মতো এমন ব্যবসায়িক পরিবর্তন দেখা গেছে।

কান্তাসের ১১ হাজার কর্মী বিনাবেতনে চাকরিতে বহাল রয়েছেন। এই কর্মী সংখ্যা সংস্থাটির মোট জনশক্তির প্রায় অর্ধেক। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী চাপ বাড়তে থাকায় আগামী ডিসেম্বরের শুরুর দিকে তাদের আবার কর্মে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে কান্তাসের প্রধান নির্বাহী।

আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী চাপ বাড়তে শুরু করায় শুক্রবার (২২ অক্টোবর) লন্ডন রুটে ২০টি ফ্লাইট যোগ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে অ্যালন জয়েস বলেন, আমরা লন্ডন রুটে ২০টি ফ্লাইট বাড়িয়েছি। এই রুটে চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই এই রুটের টিকিট বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। এর কারণও আছে। ক্রিসমাসকে সামনে রেখে অনেকে প্রবাসীই অস্ট্রেলিয়ায় ফিরতে মরিয়া হয়ে আছে।

তবে এমন একটি দিনের দেখা পেতে অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে দীর্ঘ সময়। সে কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, গত ২০টি মাস কান্তাস এয়ারওয়েজের ১০০ বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার সময়। আমাদের বিমানগুলোকে গ্রাউন্ডে রাখতে হয়েছে, কর্মীদের কর্মহীন রাখতে হয়েছে, ব্যবসায়িক বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে ভাবতে হয়েছে। তবে এখন টানেলের শেষ প্রান্তে আলো দেখতে পাচ্ছি আমরা। এবং এজন্য আমরা আর হাত গুটিয়ে বসে থাকছি না। আকাশে আরও বেশি বিমান উড়ানোর প্রস্তুতি নিয়েছি। আন্তর্জাতিক অনেক গন্তব্যে যাত্রী পৌঁছে দিতে শুরু করেছি। একই সঙ্গে অনেক কর্মীকে কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলেও জানিয়েছেন ‍তিনি।

ইতোমধ্যে কর্মীদের কাজে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা জানিয়ে অ্যালন বলেন, এ কারণেই আমরা আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে অভ্যন্তরীণ রুটের জন্য আগামী ডিসেম্বরের শুরুতেই আমরা আমাদের ৫ হাজার কর্মীকে কাজে ফিরিয়ে আনছি। এটা অবশ্যই তাদের ও তাদের পরিবারের জন্য খুবই খুশির খবর। আন্তর্জাতিক রুটের ৬ হাজার ক্রু, যারা গত মার্চ থেকে বসে আছে। তাদেরও অনেকেই কাজে ফিরবে। এ থ্রি এইট জিরো মডেলের বিমানের জন্য আমাদের ক্রুদের ফিরিয়ে আনছি, এবং তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা দরকার বলে মনে করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট ম্যারিসন। তিনি বলেছেন, সত্যিই এটা একটা খুবই আনন্দের দিন যে আবার আকাশে উড়ছে অস্ট্রেলিয়া। কর্মীরাও সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। আমরা দেখছি তারা নিজেদের ঝালিয়ে নিতে প্রস্তুত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here