রোনালদোর শেষ মুহূর্তের গোলে জিতল ইউনাইটেড

0
41

আন্তর্জাতিক বিরতির আগে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচেই এমন কিছু দেখা গিয়েছিল। ঘরের মাঠে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে প্রথমে পিছিয়ে পড়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। একটু পর ম্যাচে ফিরলেও জয় আর পাবে না বলেই মনে হচ্ছিল ইউনাইটেড। কিন্তু যোগ করা সময়ে দলের ত্রাতা হয়ে এসেছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। অন্তিম মুহূর্তে দলকে জিতিয়েছেন সিআর সেভেন। গতকাল যোগ করা সময়ে গোল করেননি, আরও আগেই দলকে স্বস্তি দিয়েছেন। তবে নাটকের কমতি ছিল না তাতে।

প্রথম ২৮ মিনিটেই ২ গোলে পিছিয়ে পড়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ম্যাচের ৫২ মিনিট পর্যন্ত ঘরের মাঠে ২ গোলেই পিছিয়ে ছিল দলটি। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন ওল্ড ট্রাফোর্ডে আবার হারতে যাচ্ছে ইউনাইটেড। কিন্তু আরেক ২৮ মিনিটে প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল ইউনাইটেড। চ্যাম্পিয়নস লিগে গ্রুপের তৃতীয় ম্যাচে প্রথমে পিছিয়ে পড়া ইউনাইটেড শেষ পর্যন্ত আতালান্তার বিপক্ষে জিতেছে ৩-২ গোলে।
৫৩ মিনিটে প্রথমে ব্যবধান কমিয়ে ইউনাইটেডকে লড়াইয়ে ফেরান মার্কাস রাশফোর্ড। ২২ মিনিট পর সমতাসূচক গোল করেন দলের অধিনায়ক হ্যারি ম্যাগুয়ার। দলকে জেতানোর দায়িত্ব অবশ্য রোনালদোর। এই তিনের কল্যাণেই চ্যাম্পিয়নস লিগে জমজমাট এক ম্যাচ উপহার দিল উলে গুনার সুলশারের দল। এই জয়ে ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘এফ’ গ্রুপের শীর্ষে ইউনাইটেড। আর হেরে ৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ইতালিয়ান ক্লাব আতালান্তা।

৩-২ স্কোরলাইন হাড্ডাহাড্ডি এক ম্যাচের কথা বলে। বাস্তবতা হলো, বলের দখল ও গোলের সুযোগ তৈরি করাতে বেশ এগিয়ে ছিল ইউনাইটেড। ম্যাচে ৫৬ শতাংশ সময় বল ছিল তাদের পায়ে। গোলমুখে শট ছিল ৯টি। নিজেদের মাঠে রোনালদো, রাশফোর্ডরা তো গোলের সুযোগ নষ্ট করেছেনই, বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল পোস্টও। দুর্দান্ত খেলেছেন আতালান্তা গোলরক্ষক হুয়ান মুসো।

১৫ মিনিটে অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে এগিয়ে যায় আতালান্তা। ডান প্রান্ত থেকে দাভিদে জাপাকস্তার ক্রসে গোলমুখ থেকে শুধু পা ছোঁয়ার কাজটি করেছেন মারিও পাসালিচ। এই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ২৮ মিনিটে দ্বিতীয় গোল হজম করে ইউনাইটেড।

কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে বক্সের মধ্য থেকে লাফিয়ে উঠে হেডে গোলটি করেন দেমিরাল। জোড়া ধাক্কা সামলে উঠে ম্যাচটি জিততে পারবে ইউনাইটেড, এ নিয়ে বাজি ধরার লোক তখন কমই। ভিয়ারিয়াল ম্যাচের আগে চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম ম্যাচেই দুর্বল ইয়াং বয়েজের কাছে হেরেছে ইউনাইটেড।
দ্বিতীয়ার্ধের গল্প একেবারে ভিন্ন। ৫৩ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেজের থ্রু নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সের মধ্যে বাঁ পাশ থেকে দূরের পোস্টে গোল করেন ইংলিশ এই ফরোয়ার্ড রাশফোর্ড। এতেই লড়াইয়ের শক্তি বেড়ে যায় ইউনাইটেডের। ডান পায়ের দুর্দান্ত শটে সমতায় ফেরানোর কাজটি করেছেন ম্যাগুয়ার। জাডোন সানচোর ক্রস বদলি এডিনসন কাভানির মাথা ছুঁয়ে ম্যাগুয়ারের সামনে পড়লে দারুণ গোলে ওল্ড ট্রাফোর্ড মাতিয়ে দেন তিনি।

স্বস্তি ফেরানোর পর বাকি থাকল ম্যাচ জেতার আনন্দ। সেই দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়ার জন্য রোনালদো তো আছেনই। বাঁ প্রান্ত থেকে লুক শয়ের ক্রসে অনেক উঁচুতে লাফিয়ে হেডে গোলটি করেন পর্তুগিজ তারকা। এই গোলে রোনালদো শুধু দলকেই জেতালেন না, যেন বাঁচালেন একসময়ের সতীর্থ ও বর্তমান কোচ সুলশারের চাকরিটাও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here