এবার একটা নজরকাড়া পারফরম্যান্স দেখতে চাই

0
45

আমার মনে হয় প্রথম পর্বে আটটি দলের মধ্যে পাপুয়া নিউগিনি সবচেয়ে দুর্বল। আমি যা দেখেছি ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং, এমনকি ফিটনেসের দিক দিয়ে সবচেয়ে দুর্বল তারাই। দলগত শক্তিতে আমরা অনেকটাই এগিয়ে। পাপুয়া নিউগিনিকে আমাদের প্রিমিয়ার লিগের মাঝারি মানের কোনো দলের সঙ্গে তুলনা করা যায় হয়তো। এ ম্যাচ নিয়ে তাই খুব একটা দুশ্চিন্তা করছি না। তবে ক্রিকেটে তো যে কোনো কিছু হতেই পারে। কোনো কিছুতে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হওয়া ভালো নয়, মনে রাখতে হবে সেটাও।

আপাতত মনে হচ্ছে দলগত শক্তির পার্থক্যের কারণে বড় একটা ব্যবধানেই জিততে যাচ্ছি আমরা। ইনশা আল্লাহ নেট রানরেটের সুবাদে নিশ্চিতভাবেই আমরা পরের রাউন্ডে যাব। কোনো কারণে দ্বিতীয় ম্যাচে স্কটল্যান্ড জিতলে রানার্সআপ হয়েই যেতে হবে। আবার ওমান জিতলে চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাওয়ারও সুযোগ আছে।

আমার পর্যবেক্ষণ বলে, দিনে দুটি ম্যাচের মাঝে প্রথমটিতে পিচ অনেক ব্যাটিং সহায়ক থাকছে। বিশেষ করে প্রথম ম্যাচে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ের সময় ব্যাটসম্যানদের জন্য শট খেলা অনেক বেশি সহজ হয়ে যায়। আমার বিশ্বাস, পরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেলে আমরা বেশ বড় ব্যবধানেই জিততে পারব। পরের রাউন্ডে যাওয়ার আগে এ ম্যাচটা আমাদের জন্য যা কিছু এলোমেলো আছে, সেসব গুছিয়ে নেওয়ার শেষ সুযোগ। ভাগ্য ভালো, এটার জন্য আমরা মোটামুটি কম শক্তির একটা দলকেই পেয়েছি।

আমাদের বোলিং আপাতত একটা স্থিতিশীল পর্যায়েই আছে। সেখানে তেমন অদলবদল করার কিছু দেখছি না। মূল সমস্যাটা ব্যাটিং এবং ব্যাটিং অর্ডারে। দুটি জায়গাতেই সমস্যা দেখছি। সঙ্গে ক্যাচিংয়ের উন্নতিও করতে হবে, রানআউটের সুযোগ কাজে লাগানোর দিকে আরও মনোযোগী হতে হবে সন্দেহ নেই। কারণ পাপুয়া নিউগিনি এমন সুযোগ দেবে।

প্রশ্ন হলো, ব্যাটিংয়ে কী করব? যেহেতু ব্যাটিং সহায়ক কন্ডিশনে খেলা, দিনে খেলা, ডানহাতি–বাঁহাতি সমন্বয় যদি দলীয় ম্যানেজমেন্ট রাখতে চায়, তাহলে ক্রমাগত ব্যর্থতার পরও লিটন আরেকটা সুযোগ পেলেও পেতে পারে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সে হারানো ফর্ম ফিরে পেলে আমাদের শুরুতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ার একটা সমাধানও হবে।

এরপর ব্যাটিং অর্ডারের ব্যাপার। মূলপর্বে ব্যাটিং অর্ডার কেমন হবে, সেটা ভেবে এখনই সব ঠিকঠাক করে ফেলা উচিত। আগের ম্যাচে আমাদের ব্যাটিং অর্ডার বেশ এলোমেলো ছিল। আমার মনে হয় আবেগ সরিয়ে রেখে মাহমুদউল্লাহকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে মাথা ঠান্ডা রেখে। কারও কথায় কান না দিয়ে, দলের জন্য যেটা ভালো, সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাঁর যে কর্তৃত্ব আছে, সেটার প্রয়োগ দেখাতে হবে ব্যাটিং অর্ডার ঠিক করার ক্ষেত্রেও। হ্যাঁ, ম্যাচের চাহিদা অনুযায়ী তো ব্যাটিং অর্ডারে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করতে হবেই। তবে কাউকে আগে-পরে পাঠাতে হলে সেসবের যুক্তিযুক্ত কারণ থাকতে হবেএখানে আবেগের কোনো স্থান নেই। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা মাহমুদউল্লাহ বা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১২ হাজারের ওপর রান করা মুশফিকের সাত-আট নম্বরে খেলার কোনো যৌক্তিকতা দেখছি না আমি।

এ পর্ব যেমনই যাক, পরের রাউন্ডে গেলে আমাদের পারফরম্যান্সটা অনেক ভালো করতে হবে নিশ্চিতভাবেই। তবে আমরা নতুন সুযোগ পাব, নতুন দুয়ার খুলে যাবে। নিজেদের দলটাকেও বিশ্ব ক্রিকেটের সামনে নতুন করে তুলে ধরতে পারব।

ওমানের এ মাঠে প্রস্তুতি ম্যাচসহ আমাদের চতুর্থ ম্যাচ হতে যাচ্ছে। এবার একটা নজরকাড়া পারফরম্যান্স দেখতে চাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here